Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৩ । Driving license online apply | DL

 ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৩ । Driving license online apply | DL

ভুমিকাঃ
 
দূরত্ব কমিয়ে পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনেছে  আধুনিক যানবাহন। আর এই আধুনিক যানবাহনগুলো এখন প্রতি মূহুর্তে আরও একটু সহজলভ্য হচ্ছে। তবে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল দেশেই যানবাহন বা গাড়ি চালাতে প্রয়োজন ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License)। এ নিয়ে  বিস্তারিত আলোচনা ।



 কার ,সিএনজি,বাস,ট্রাক ও মোটরসাইকেল 
চালাতে লাগবে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স  । তবে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে ফেললে আপনি সেই যানবাহনটি চালাতে বা ড্রাইভ করতে পারবেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া আপনার কোনও বাহন ড্রাইভ করা বেআইনি গণ্য হবে।

তাই আজকের আয়োজনে যা যা থাকছে
  •  ড্রাইভিং লাইসেন্স করার উপায়। 
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স বানাতে যা যা লাগে, 
  •  ড্রাইভিং লাইসেন্স বানাতে খরচ ও ফী কতো লাগে,
  •  ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়ন প্রক্রিয়াসহ 
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে পুনরায় পাওয়ার উপায়
  • ড্রাইভিং লাইসেন্সে উত্তোলন

 লাইসেন্স কি ?


“লাইসেন্স” অর্থ নির্দিষ্ট কোন একটি অভিজ্ঞতা যা কোন নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কর্তৃত্ব প্রদান করে কর্তৃপক্ষ / brta অনুমতি প্রদান করে দলিল প্রদান করেন তাকে লাইসেন্স বলে।

আরো পড়ুন 


ড্রাইভিং লাইসেন্স কি ?
“ড্রাইভিং লাইসেন্স” অর্থ নির্দিষ্ট কোন একটি মোটরযান যা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর মোটরযান চালানোর জন্য কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কর্তৃত্ব প্রদান করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দ্বারা প্রদত্ত দলিলকে ড্রাইভিং লাইসেন্স বলে।


ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা  কি ?

মোটর‍যান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ধারা ৩ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি গাড়ি চালানোর জন্য তার কাছে একটি বৈধ 
ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা প্রয়োজনীয় ।কোন ব্যক্তি বেতনভোগী  কর্মচারী হিসেবে  বা ব্যক্তিগত গাড়ী চালাতে চা্ইলে তার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন।



ড্রাইভিং লাইসেন্স কয় ধরনের ?
ড্রাইভিং লাইসেন্স দুই প্রকার। 
  1. পেশাদার 
  2.  অপেশাদার

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: 
যে লাইসেন্স দিয়ে একজন চালক বেতনভোগী কর্মচারী হিসেবে কোন মোটরযান চালিয়ে থাকেন তাকে পেশাদার লাইসেন্স বলে। এই লাইসেন্সের মেয়াদ ৫ বছর এবং লাইসেন্স পেতে পুলিশ ভেরিকেশন রিপোর্ট প্র‍য়োজন। ৫ বছর পর নবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয় এবং ব্যবহারিক পরিক্ষা দিতে হয়।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: 
যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কোন চালককে বেতনভোগী কর্মচারী না হয়ে হালকাযান চালানো অথবা পরিবহনযান ভিন্ন অন্যান্য মোটরযান চালানোর  জন্য প্রদান করা হয় তাকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বলে। এ লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর। অপেশাদার লাইসেন্স পেতে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্র‍য়োজন হয় না। মেয়াদ উত্তীর্ণের পর নবায়ন পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজন হয় না। অপেশাদার লাইসেন্স দিয়ে মাঝারিযান বা ভারীযানবাহন চালাতে পারবেন না।

আরো পড়ুন 
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি 
  • মেডিকেল ফরম ফিলাপ করার নিয়ম
  • শিক্ষানবিস লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ করার নিয়ম



লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স কি? 



ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে আপনাকে প্রথমে পেতে হবে লার্নার বা শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীর যোগ্যতা কি ?
  •  শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণী পাশ।
  • অপেশাদার এর জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর 
  • এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য বয়স ন্যূনতম ২১ বছর 
  •  মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।


যেভাবে পাবেন লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ?

গ্রাহককে প্রথমে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনলাইনে (bsp.brta.gov.bd)-এর মধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন সিস্টেম থেকে তার লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু হবে এবং গ্রাহক সাথে সাথেই সিস্টেম থেকেই তার শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।




এরপর ২/৩ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তাকে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে 
  • লিখিত, 
  • মৌখিক 
  • ফিল্ড টেস্ট-এ অংশ গ্রহণ করতে হবে। 

এসময় প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তার লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স (মূল কপি) ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কলম সাথে আনতে হবে।


ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পদক্ষেপ সমূহ

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • নির্ধারিত ফরমে আবেদন অনলাইনে আবেদন।
  • আবেদনকারীর ছবি [ছবির সাইজ সর্বোচ্চ ১৫০ কেবি (৩০০ x ৩০০ পিক্সেল)]
  • রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট (সর্বোচ্চ ৬০০কে.বি)।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি (সর্বোচ্চ ৬০০কে.বি)
  • ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান কপি (সর্বোচ্চ ৬০০কে.বি), [ আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা যদি ভিন্ন হয় তবে বর্তমান ঠিকানার ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত করতে হবে ]
  •  বিদ্যমান ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যান কপি [ ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়ন/শ্রেণী পরিবর্তন/শ্রেণী সংযোজন/ লাইসেন্সের ধরণ পরিবর্তণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ] (সর্বোচ্চ ৬০০কে.বি)
  • অনলাইনে আবেদন দাখিলের সময় ভুয়া তথ্য প্রদান করা হলে তার লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • নির্ধারিত ফী, ১ ক্যাটাগরি-৩৪৫/-টাকা ও ২ ক্যাটাগরি-৫১৮/-টাকা অনলাইনে পরিশোধ।

আরো পড়ুন 

ধাপ-১

প্রথমে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে ৩ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি সহ পূরন করতে হবে।

বিআরটিএ তে গিয়ে নির্ধারিত ব্যাংকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি জমা করতে হবে। যদি একটি ক্যাটাগরীর জন্য আবেদন করা হয় ( গাড়ি অথবা বাইক), সেক্ষেত্রে ফী হচ্ছে ৩৪৫ টাকা। এবং, যদি গাড়ী এবং মোটরসাইকেল একসাথে আবেদন করা হয়, তবে ফী হচ্ছে ৫১৮ টাকা। ব্যাংক রিসিপ্ট সহ পূরনকৃত ফর্মটি বিআরটিএ তে জমা দিতে হবে ।

ধাপ-২

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর পরীক্ষাগুলো প্রতি ৭/১৫ দিন পর পর হয়। তবে, কেউ যদি চায় তবে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ পরীক্ষার জন্য আগে পরীক্ষা দিতে পারে। 

সাধারনত ৩ দিন এর মধ্যেই লাইসেন্স পাওয়া যায়। এই ৩ দিন এর মধ্যে নন প্রফেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফর্ম এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট কালেক্ট করতে হবে যা এই লাইসেন্স এর সাথে যুক্ত থাকবে।

ধাপ-৩

পরীক্ষায় পাশ করার পর ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য 
  • ফি ২৫৪২ টাকা জমা দিতে হবে 
  • জন্ম নিবন্ধন, 
  • পাসপোর্ট এর কপি অথবা 
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে 
  • লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিতে হবে 
  • ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি সহ নন প্রফেশনাল/  প্রফেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফর্ম ফিলাপ করতে হবে

এবার সব কিছু এক করে বিআরটিএ তে জমা দিতে হবে এবং টোকেন সংগ্রহ করতে হবে ।

বায়োমেট্রিক দেয়ার পর মুল লাইসেন্স পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত টেম্পোরারি লাইসেন্স পাওয়া যাবে।

যখন লাইসেন্স রেডি হয়ে যাবে তখন এসএমএম এর মাধ্যমে জানানো হবে । সাধারনত ৩-৪ মাস সময় লাগে। তারপর টেম্পোরারি লাইসেন্স জমা দিয়ে মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে।
আরো পড়ুন 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ